[ My Blog ]

Hello, I'm Atiab Jobayer. I am a competitive programmer & UI designer with a mass experience of working on a few projects as a frontend developer. I am also a debater and web software researcher.

প্রোগ্রামিং শেখার প্রতিবন্ধকতার গল্প পর্ব ১

July 22, 2015 Atiab Jobayer

কিছুদিন থেকে আমার মনে হচ্ছে যে, আমরা আসলে যে প্রোগ্রামার(বড় বা ছোট যাই হই!) , আমাদের জন্য এবং পরে যারা শিখবে তাদের জন্য দেশে কি আসলেই সঠিক পরিবেশ আছে কি না। সেটা নিয়েই এই মতামতটা লিখলাম।

কিছুদিন আগে ক্ষুদে প্রোগ্রামারদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের(সম্ভবত প্রথম) প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা NHSPC অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুব ভালো উদ্যোগ তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্ত কিছু সমস্যা রয়েই গেছে। এখানে প্রোগ্রামারদের পাশাপাশি আইসিটি কুইজ নামে ইভেন্ট ছিল। এর মুল উদ্দেশ্য ছিল যারা কুইজ এ অংশ নিতে আসবে তারাও প্রোগ্রামিং সম্পর্কে মোটামুটি ভালো ধারণা নিয়ে বাসায় ফিরবে। পাশাপাশি শিক্ষক দের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। ধরে নিলাম, তারা প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গেছে। কিন্ত সমস্যা এখানে যে তারা এর জন্য উপযুক্ত শেখার এবং কাজে লাগানোর পরিবেশ টা পাচ্ছে কি না।

NHSPC@Barisal এ আমি অংশ নিয়েছিলাম এবং আমাদের স্কুলের আইসিটি শিক্ষক ও সেখানে গিয়েছিলেন। আমার সেখানে প্রতিযোগিতার ব্যস্ততার মাঝে তাঁর সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি। আমি যখন পরে স্কুল এ গিয়েছিলাম তখন দেখি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। আমি তাঁর কাছে জানতে চাইলাম কি বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করা হয়েছিল। তাঁর মতামত ছিল এরকম যে, সেখানে গিয়ে তাঁর কোন লাভই হয়নি। ট্রেনিং প্রোগ্রামে তাদের হাতে এক কপি করে দ্বিমিক কম্পিউটিং এর প্রোগ্রামিং এ হাতেখড়ি এর ডিভিডি ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আসলে আপনাদের নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে করতে পারলাম না”

প্রোগ্রামিং জিনিসটা বিশ্বের অনেক দেশে ছোট থেকে শেখা বাধ্যতামূলক। আমরা ক,খ কিংবা A,B,C শিখতে গেলে আপত্তি করি না কারণ আমরা এর ব্যবহারটা বাস্তবে দেখতে পাই এবং অনেক ছোট থেকে শিখি বলে এর গুরুত্ব না বুঝে আমরা খেলার ছলে এটি শিখে নেই। কিন্ত একটা জিনিস এখানে লক্ষণীয় যে, আমরা তখন না বুঝে এগুলো না শিখলে পরবর্তীতে এগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে শেখা মোটামুটি অসম্ভব বলেই আমার কাছে মনে হয়। যাই হোক এবার উদাহরণ থেকে বাস্তবে আসা যাক।

NHSPC থেকে সরবরাহকৃত ডিভিডি থেকে একটা টিউটোরিয়াল থেকে তাঁকে আমি “Hello World!” প্রিন্ট করে দেখালাম।তাঁর মতামত হল এতে কি লাভ হল? তাঁর আগ্রহ বাড়ানোর জন্য আমি দুইটা সংখ্যা যোগ করার প্রোগ্রাম লিখে দেখালাম। এতে তাঁর ধারণা একটু পাল্টালো। কিন্ত তবুও প্রশ্ন রয়েই গেল, এটা তো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করেই করা যায়। তাহলে এতগুলো লাইন লিখে এটা করার কি অর্থ?

আমার শিক্ষক এর মতামত বা তাঁর করা প্রশ্নটা মোটেই ফেলনা নয়। সে হয়ত প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারনার অভাবে এই প্রশ্নটি করেছে। কিন্ত তাঁর মত হাজার শিক্ষক দেশে রয়েছে। সবার মনেই এক প্রশ্ন যে, কেন প্রোগ্রামিং করতে হবে?

তাহলে লাভ কি হল? এরকম ভাবে শিক্ষকদের প্রোগ্রামিং করার ব্যবস্থা করা হবে, শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে কিন্ত এই প্রশ্নটি রয়েই যাবে।তাই আগে এর উপকারটা আগে শিক্ষকদের জানাতে হবে। আমাদের মত শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখাটা হয়েছে নেহাত প্রবল আগ্রহ এর কারণে। আজ এই আগ্রহীদের মধ্য থেকে ১৯০ জন জাতীয় পর্যায়ের প্রোগ্রামার বের হয়েছে NHSPC থেকে। কিন্ত এই অবস্থা যদি পরিবর্তিত না হয় তবে ২০২৫ সালের এনএইচএসপিসি থেকে সর্বোচ্চ ২২0 জন প্রোগ্রামিং মেধা বের হবে। শিক্ষকরাই যদি না জানে তাহলে কোন শিক্ষার্থীরা যদি সেখা শুরু করে তাহলে শিক্ষকরা আরো নিরুৎসাহিত করবেন।
তাই আগে চাই শিক্ষকদের প্রোগ্রামিং জ্ঞান।