[ My Blog ]

Hello, I'm Atiab Jobayer. I am a competitive programmer & UI designer with a mass experience of working on a few projects as a frontend developer. I am also a debater and web software researcher.

প্রোগ্রামিং শেখার প্রতিবন্ধকতার গল্প পর্ব ২

July 23, 2015 Atiab Jobayer

এই লেখার আগের অংশে আমরা আলোচনা করেছিলাম এনএইচএসপিসি এর কিছু সমস্যা নিয়ে এবং আমাদের সর্বশেষ মতামত ছিল আগে শিক্ষকদের প্রোগ্রামিং শেখা বাধ্যতামূলক করা নিয়ে।

আজকের সাতকাহন এর দ্বিতীয় পর্বের আলোচ্য বিষয় শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ, সঠিক ব্যবস্থা এবং কাজে লাগানোর সুযোগ নিয়ে।

বর্তমানে কিছু কিছু কারণে প্রোগ্রামিং জিনিসটা অনেকের(বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের কাছে) জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর পিছনে অনেক কিছুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদান আছে। বাংলাদেশের ছোটদের প্রোগ্রামিং শেখার সম্ভত অগ্রপথিক হিসেবে একজন লোকের নাম বলা যায় এবং সে হল, তামিম শাহরিয়ার সুবিন। প্রোগ্রামিংকে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার বাইরে এনে শখের কাজ হিসেবে করা যায়, এটা বাংলাদেশে তারই আনা। তাঁর লেখা বই এবং ভিডিও লেকচার দিয়ে অনেককে তিনি এই প্রোগ্রামিং এর আশ্চর্য জগতের পথে এনেছেন। তাই ওনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

আমার মনে আছে আমি যখন প্রথম আইপ্যাড পেয়েছিলাম তখন দেশে 3G নেটওয়ার্ক চালু হয়নি। তো তখন যখন কম্পিউটার গেম খেলতে খেলতে মাথায় এলো এগুলো বানায় কিভাবে এবং আমরা বানাতে পারি কি না। অভ্যাসমত গুগল করলাম এবং প্রোগ্রামিং নামক এক শব্দ আমার ডিকশনারীতে যুক্ত হল। তখনি অনলাইনে কিছু জায়গায় বাংলাতে প্রোগ্রামিং শেখার ভিডিও লেকচার পাওয়া যেত। কিন্ত 2G নেটওয়ার্ক এ এগুলো দেখা কি পরিমাণ কষ্টসাধ্য এবং একই হারে ব্যয়বহুল তা কারোরই অজানা নয়। তখন সুবিন ভাই এর বইটা পেয়ে মনে হয়েছিল আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি।

এবার মুল বিষয়ে আসি। আমরা যারা আগে প্রোগ্রামিং শিখেছি তাদের দেখে অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন প্রোগ্রামিং শিখতে চায়। বাধা এখানে যে, কম্পিউটার চালাতে জানলেও তাদের অনেকের বাসাতে কম্পিউটার নেই। তাহলে কি তারা প্রোগ্রামিং শিখতে পারবে না? আমার প্রথমে ধারণা ছিল, হয়ত সম্ভব না। পরে দেখলাম, নবম-দশম শ্রেণিতে প্রোগ্রামিং শেখানো হয়। Visual Basic নামের এই ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে প্রোগ্রামিং শুরু করার ব্যপারে আমার যথেষ্ট দ্বিমত রয়েছে। প্রোগ্রামিং এর সাধারণ বিষয় না জানিয়ে শুরুতেই Object-Based ল্যাঙ্গুয়েজ শেখানোটা আমার যোক্তিক মনে হয় না।

যাই হোক, যেহেতু স্কুলের বইয়ে প্রোগ্রামিং আছে অতএব স্কুলে প্রোগ্রামিং না শিখানো হলেও ব্যবস্থা থাকার কথা। এখানে এসে আমার চিন্তাধারা মিলে গেল। আমি দেখলাম বেসিক না জানার কারণে শিক্ষকরা Visual Basic ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। কিন্ত সরকার থেকে তো ঠিকই ব্যবস্থা করার কথা। কিন্ত পরে যা দেখালাম তাতে আমি খুব হতাশ হলাম।

আমি এটা দেখে হতাশ হয়েছিলাম যে, স্কুলে শিক্ষার্থীদের বেসিক কম্পিউটিং এবং প্রোগ্রামিং শেখার জন্য কম্পিউটার দেয়া হয়েছে। এটা ভালো সংবাদ। কিন্ত হতাশার বিষয় হল তাদের কনফিগারেশন। আমার ধারণা রাস্পবেরি পাই ছাড়া আর কোন কম্পিউটার এ ৮ জিবি মেমোরি থাকতে পারে কি না। একটা আস্ত ল্যাপটপ যাতে উইন্ডোজ ওএস চলে তাতে এত কম মেমোরি থাকা সম্ভব বলে মনে হত না। কিন্ত এই “স্টুডেন্ট ল্যাপটপ” দেখে এই অবিশ্বাসকে বিশ্বাস করতে হল। Windows XP ইন্সটল করার পরে এই ৮ জিবি মেমোরির ২ জিবির মত খালি থাকতে পারে। এটাতে সাধারণ কাজ চালানোই মোটামুটি অসম্ভব, সি ল্যাঙ্গুয়েজ চালানো তো আরো আর Visual Basic পুরা অসম্ভব। কারণ, Visual Studio প্যাকেজটা ইন্সটল করতে প্রায় ৩ জিবি মেমোরি লাগে! তারপরের সমস্যা হল, এখন আইসিটি বিষয়টা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাহলে ব্যবহারিক অংশও আছে। এখানে গিয়ে আমাদের বইয়ের লেখকরা তাদের বইটা লিখলেন Windows 7 এর ছবি দিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই, যারা প্রথম কম্পিউটার ইউজ করতে গেলে সবাই মিলিয়ে মিলিয়ে কাজ করে। তখন শিক্ষকের ল্যাপটপ এর বা বইয়ের ছবি যদি তাঁর ল্যাপটপ এর সাথে না মিলে তখন তাঁর বুঝতে অসুবিধা হয়। কারণ, Windows XP এবং Windows 7 এর প্রিভিউতে অনেক অমিল রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখার পথ সুগম করতে প্রত্যেক স্কুলে ভাল কনফিগারেশন এর ল্যাপটপ চাই।